সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির ঘটনায় মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে, রাত ১০টার দিকে, টঙ্গী পশ্চিম থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন মাওলানা জুবায়েরের অনুসারী এস এম আলম হোসেন নামের এক ব্যক্তি।
মামলার বাদী এস এম আলম হোসেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত এস এম মোক্তার হোসেনের ছেলে। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার আলমি শুরার সাথি হিসেবে পরিচিত।
মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েক শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাদ অনুসারীদের প্রধান মুরব্বি সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, তাঁর ছেলে ওসামা ইসলাম আনু, আবদুল্লাহ মনসুর, কাজী এরতেজা হাসান, মোয়াজ বিন নূর, জিয়া বিন কাশেম, আজিমুদ্দিন, আনোয়ার আবদুল্লাহ এবং শফিউল্লাহসহ আরও অনেকে। এরা সবাই মাওলানা সাদ অনুসারীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসকানদার হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির ঘটনায় মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা প্রথমে একটি এজাহার দায়ের করেন। পরে সেটি যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মামলায় রূপান্তরিত হয়। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও অসংখ্য অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে তিন দিনের মূল ইজতেমা শুরু হওয়ার কথা। ইজতেমা উপলক্ষে মাঠ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা মাঠে অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যেই মাওলানা সাদ অনুসারীরা সরকারের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে কোনো অনুমতি ছাড়াই ২০ থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইজতেমা মাঠে ৫ দিনের জোড় আয়োজনের চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন উসকানিমূলক বার্তা প্রচার করতে থাকেন। মামলার প্রধান আসামি সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম তাঁর স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে সারা দেশের সাদ অনুসারীদের ২০ থেকে ২৪ ডিসেম্বর ইজতেমা মাঠে জোড় পালনের আহ্বান জানান। এর জেরে, হাজার হাজার সাদ অনুসারী মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে ইজতেমা মাঠের চারপাশে জড়ো হতে শুরু করেন।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের নির্দেশে মঙ্গলবার গভীর রাতে, রাত সাড়ে ৩টার দিকে, সাদ অনুসারীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘুমন্ত সাধারণ মুসল্লিদের (জুবায়েরপন্থী) ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই হামলায় প্রাণ হারান কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দু গ্রামের মৃত ওসমান গণির ছেলে আমিনুল ইসলাম (৬৫), ফরিদপুর সদর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের মৃত শেখ সামাদের ছেলে বেলাল হোসেন (৬০) এবং বগুড়া সদর উপজেলার ধাওয়াপাড়া গ্রামের ওমর উদ্দিনের ছেলে তাজুল ইসলাম।